অন্যান্য দেশ সংযোগ ফিচার রাজনীতি

“মূর্খদের হাতে দেশের দায়িত্ব পড়লে সে দেশের কোনো অগ্রযাত্রা হতে পারে না”

অশিক্ষিত, মূর্খদের হাতে দেশের দায়িত্ব পড়লে সে দেশের কোনো অগ্রযাত্রা হতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

আজ শুক্রবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ছাত্রলীগের ছাত্রসমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়া ছাত্রদলের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বলেছিলেন, আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে ছাত্রদলই যথেষ্ট। আর ছাত্রলীগকে খাতা-কলম হাতে দিয়ে তিনি পড়াশোনা করতে বলেছেন। কেননা, লেখাপড়া শিখে মানুষের মতো মানুষ না হলে কোনো আদর্শ বাস্তবায়ন করা যায় না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি ’৭৫ সালের কথা চিন্তা করি, তাহলে দেখব, জাতির পিতাকে হত্যার পর যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা দেশকে কিছুই দিতে পারেনি। যে জাতি যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছে, বিজয়ী সেই জাতির বিজয়ের ইতিহাস মুছে ফেলেছিল তারা। ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলেছিল।

তিনি বলেন, এ দেশে ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ ছিল। যে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে এ দেশের লাখ মানুষ বুকের রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা এনেছে, সেই স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ রেডিওর নামসহ বিভিন্ন নাম পরিবর্তন করে যাদের আমরা পরাজিত করেছি, সেই পরাজিত শক্তির পদাঙ্ক অনুসরণ করার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল খুনি মোশতাক-জিয়া।

জিয়াউর রহমান আমাদের স্বাধীনতার চেতনাকে ধ্বংস করার জন্যই ক্ষমতায় এসেছিল বলেও মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

শেখ হাসিনা বলেন, বর্তমানে সবাই নিজেদের স্বজন হারানোসহ যেকোনো অন্যায়ের বিচার চায়। অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থা মানবাধিকারের কথা বলে। আমার প্রশ্ন: সেই ১৫ আগস্ট যখন মা-বাবা-ভাইসহ সব হারালাম, আমাদের তো বিচার চাওয়ারও অধিকার ছিল না। আমরা তো বিচার চাইতেও পারিনি। ১৯৮১ সালে যখন আমাকে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়, আমি দেশে ফিরে এসেছিলাম অনেক বাধাবিঘ্ন অতিক্রম করে, এক রকম জোর করে ফিরে এসেছিলাম।

তিনি বলেন, আমি জানি, তখন ওই খুনিদের ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বিচারের হাত থেকে রেহাই দিয়ে পুরস্কৃত করে ক্ষমতায় বসিয়েছিল জিয়া। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছিল, অনেকে কারাগারে ছিল, তাদের মুক্ত করে তখন ক্ষমতায় বসানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, আমার একটাই লক্ষ্য, এ বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করবো। কবির ভাষায়, ‘এই বিশ্বকে বাসযোগ্য করে যাবো আমি, নবজাতকের কাছে এ আমার অঙ্গীকার।’ আমার কোনো ভয় নেই। বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রায় কেউ যাতে নস্যাৎ করতে না পারে, তোমাদের (ছাত্রলীগ) অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি তোমাদের বলবো, শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা, শান্তি, প্রগতি, ছাত্রলীগের মূলনীতি।

ছাত্রলীগের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যেখানে পড়ো সেটা পরিষ্কার রাখবা। নিজের বাড়িতে কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে। যাদের জমি অনাবাদি, তাদের উৎসাহিত করবে যেন ফসল করে। বেশি করে গাছ লাগাতে হবে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও কোভিডের ধকল বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল। এ সময়ে প্রত্যেকে উৎপাদনে দৃষ্টি দিলে কারও কাছে হাত পাততে হবে না।

 

আরও পড়ুনঃ ‘বাংলাদেশে আসতে চান ওবামা-হিলারি’ দাবি ড. ইউনূসের আইনজীবীর

রিপোর্টার

About Author

14 Comments

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

জাতীয় ফিচার

নারায়ণগঞ্জে ‘ঘুঘুর ফাঁদ’-এ বিএনপি নেতারা : তৈমুর

‘তৈমুর সাহেব ঘুঘু দেখেছেন, ঘুঘুর ফাঁদ দেখেননি। টের পাবেন আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে, যে আশায় রয়েছেন, সেই আশায় গুঁড়েবালি।’ জাহাঙ্গীর
ফিচার ব্যবসা-বাণিজ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারো বাড়তে শুরু করেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে আইসিই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার